September 26, 2018, 3:41 pm

News Headline :
“১৫ টাকা সিট ভাড়া এবং ৩৮ টাকা খাবারের কাটপিস” পবিত্র হজ পালনে সাড়ে ১৩ হাজার কিমি. রাস্তা পায়ে হেঁটে মক্কায় ইন্দোনেশিয়ান যুবক যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ কে দেখতে হাসপাতালে মুক্ত বাংলার সভাপতি আবুল কালাম আজাদ হাওলাদার। টাইব্রেকারে রাশিয়াকে হারিয়ে সেমি ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া শুধু খালি পেটে এক কোয়া রসুন, এরপর ‘ম্যাজিক’ যে কৌশলে সহজেই দুর্বল হয়ে পড়ে নারীরা নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে মেধাবীরা অলস হয় যে খাবার খেলে পুরুষের শরীর সুগন্ধময় হয় এডভোকেট ইউসুফ হোসাইন হুমায়ুনকে ভোলা – ২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী আবুল কালাম আজাদ হাওলাদারের অভিনন্দন জামাতের সেক্রেটারির কাছে মাফ চাইলেন তারেক রহমান
“১৫ টাকা সিট ভাড়া এবং ৩৮ টাকা খাবারের কাটপিস”

“১৫ টাকা সিট ভাড়া এবং ৩৮ টাকা খাবারের কাটপিস”

 

গতকাল রাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন সংসদে ছিলেন, আমি তখন ছিলাম স্নাতকোত্তর নির্দেশনা পরীক্ষার রিহার্সাল ফ্লোরে। তাই, আপার বক্তব্যটি তাৎক্ষণিক শোনার সময় হয়নি। কাজ শেষ করে গভীর রাতে রুমে গিয়ে প্রথমেই ইউটিউবে সার্চ করলাম আপা ঠিক কি বলেছেন! শুনলাম। একবার, দুবার, তিনবার শুনলাম। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে “১৫ টাকার সিটভাড়া এবং ৩৮ টাকার খাবারের কাটপিস” অংশটুকু শুধু শুনে তাঁর বক্তব্যের উপরে কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবেনা। তিনি যে “গভীর রাতে মেয়েদের হল থেকে বের হয়ে আসা” নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এটা অনেকে বেমালুম চেপে গিয়েছে। আপার পুরো বক্তব্যে ছিলো সারা বাংলার ছাত্রসমাজের উপর একটা অধিকার, একটা চাপা অভিভাবকত্ব। যেমন করে ছিলো তার পিতা, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে। বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি নন, তাঁর ছিলো যুক্তি-নিয়ম-বাস্তবতা ছাপিয়ে আবেগ-ভালোবাসায় পুরো জাতির উপর একটা অলিখিত পিতৃত্ব। ১৫ আগস্টের কালো রাতের আগে বঙ্গবন্ধুকে বহুবার সেনাবাহিনীর বিপথগামী অফিসারদের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিলো। কিন্তু তার একটাই উত্তর ছিলো। “পাকিস্তান আর্মি আমাকে মারতে পারেনি, এরা তো আমার সন্তানের মতো। এরা মারবে আমাকে?” কতো মানুষ যে দেখা করতে গিয়ে তাঁর সাথে এক টেবিলে বসে রাতের খাবার খেয়েছে তার ইয়ত্তা নেই! বেশিরভাগ নেতা, জনপ্রতিনিধি, আমলা, এমনকি প্রথমবার সাক্ষাৎ করতে আসা কোনো সাধারণ নাগরিককেও ‘তুই’ করে ডাকার অদ্ভুত ক্ষমতা ছিলো তাঁর মধ্যে। ভুল, বড় ভুল করেছিলেন জাতিরপিতা। অভাগা এই জাতির উপর তাঁর এই পিতৃত্বের প্রতিদান আমরা ২৮ টা বুলেটের মাধ্যমে দিয়েছিলাম।

শেখ হাসিনাকে এই একটা জায়গায় আমরা বঙ্গবন্ধুর চেয়ে আলাদা ভেবেছিলাম। ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার কিংবা ভারতের শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধির মতোই ‘লৌহমানবী’ বলে জানতাম এতদিন আপাকে। যুদ্ধাপরাধীর বিচার, পদ্মা সেতু নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচন কালীন অস্থিতিশীলতা, এমন প্রতিটি সংকটে কেমন দৃঢ় ও কঠিন ব্যক্তিত্ব দেখিয়েছিলেন তিনি! কিন্তু গতকাল তিনি তার মাতৃত্বের আবেগ প্রকাশ করে ফেললেন। বাঙালি নারী হলো গ্রামবাংলার ঢেঁকির মতো, স্বর্গে গেলও ধানভানতে ভুলে না। কেননা ঐটাই যে তার ধর্ম। তাই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রধান হয়েও তারা নারীত্বের রূপ লুকাতে পারেনা। যদি জিজ্ঞেস করেন, আপা ঠিক করেছেন কিনা! আমি বলবো ভুল করেছেন। হতভাগা বাঙালিরা এসবের যোগ্য নয়। এই ভুল বঙ্গবন্ধু করে ঠকেছেন, তাঁকে হারিয়েছিলাম বড় অবেলায়। আরে, ভাত-কাপড়ের খোঁটা তো আপনার-আমার ফ্যামিলি থেকেও দেয়, দেয়না? বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন? যদি অস্বীকার করেন, তবে বলতে হবে আপনি অসৎ, আপনি মিথ্যাবাদী। নিজের পিতা-মাতার শাসনই সহ্য করতে মাঝে মাঝে বিপত্তি বাঁধে, আর তাঁরা তো জাতিরপিতা ও তার কন্যা! তাদের পিতৃত্ব-মাতৃত্বে আপনাদের কি আসে যায়? আজ আমি আপার হয়ে সাফাই গাইতে আসিনি একদম। আমিও আপার নিন্দা করতে করতে এসেছি। কেন তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী এই দেশের মানুষকে স্রেফ প্রজার দৃষ্টিতে দেখেন না! মূর্ছিত, পীরিত এই দেশে কেউ ভালোবাসতে জানেনা, ভালোবাসার দামও দেয়না। এক পৃথিবী ভালোবাসা নিয়ে বিদ্রোহী কবি নজরুলও এদেশের মানুষের ভোট পান নি। আজ সবাই কেমন “নজরুল নজরুল” বলে মাতম করে, সময় ফুরাবার পরে।

আপা মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, কোটার সমাধান হবে, অপেক্ষা করেন, হবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে তিনি এর আগে কিছুই বলেন নি। বলেছিলেন কোটা থাকবেনা। গতকাল বললেন মুক্তিযুদ্ধ কোটায় হাত দেবেন না। তার মানে দাঁড়ালো বাকি ২৬% কোটা বাতিল অথবা সংস্কার হবে। প্রিয় প্রজন্ম এখানেই তাদের অন্তর্নিবিষ্ট আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। এতদিন তারা বলতো, তারা মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরুদ্ধে না, তারা টোটাল কোটা সিস্টেমের সংস্কার চায়। তাই যদি হয়, তবে ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা রেখে বাকি সব কোটা বাতিল করলে সমস্যা কোথায়? মুক্তিযোদ্ধা কোটা তো ৭-৮% এর বেশি পূরণ হয়না, কখনো কখনো তা ৫% পর্যন্ত এসে ঠেকে। শূন্য কোটায় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পাচ্ছে বিগত কয়েকটি বিসিএস থেকে। এর মানে দাঁড়ালো, প্রায় ৯০-৯৫% মেধার নিয়োগের সুযোগ থাকছে এতে করে। কিন্তু এরপরেও কিছু এজেন্ডাধারী অমানুষ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। তাদের মূল ইচ্ছা সাধারণের কল্যাণের জন্য মেধাভিত্তিক নিয়োগ নয়। তারা চায় রাষ্ট্রক্ষমতা। তারা চায় ১৯৭১ সালে পরাজয়ের প্রতিশোধ। আমলাতন্ত্রে নিজেদের লোক বাড়াতে না পারলে তো এই মুল্লুকের মসনদে আর কোনোদিনও বসতে পারবেনা। এর প্রমাণও আছে। ২০১৩ সালে সারাদেশের সাধারণ মানুষ যখন একাত্তরের ঘাতক-দালালদের বিচারের দাবীতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে তুলেছিলো, ঠিক তখনই তারা ‘কোটা বিরোধী আন্দোলন’ শুরু করে ‘শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর’ এর নাম ‘মেধা চত্বর’ নামে বদলে দিতে চেয়েছিলো ইতিহাস। রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি সাধারণ মানুষের ঘৃণা আর ঐক্যের প্রতীক ছিলো ‘শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর’। খুব কৌশলে তারা এই গৌরবকে মুছে দিতে, রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি মানুষের ঘৃণা মুছতে একই জায়গায় দীর্ঘমেয়াদী এজেন্ডা নিয়ে বিশৃঙ্খলা শুরু করে। “মুক্তিযোদ্ধাদের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে” এই শ্লোগান দেয়া হয়েছিলো তখন শাহবাগ থেকে। ঐ সময়ে সারা বাংলার সবার যুদ্ধাপরাধীর বিচার বিষয়ে একাট্টা প্রকাশ এবং ‘কোটা বিরোধী’ নামে আন্দোলন ছিলো বলে হালে পানি পায়নি এই বিশেষ গোষ্ঠীটি। যা ধীরে ধীরে তারা রূপ দেয় কোটা সংস্কার আন্দোলনে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, সময় হিসেবে বেছে নেয়া হয় নির্বাচনের বছরকে। সাথে যোগ দিয়েছে আমাদের বামপন্থী বন্ধুরা, যাদের ভুল রাজনীতির সুযোগ নিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতিরপিতাকে হত্যা করেছিলো সাম্রাজ্যবাদী পশ্চিমা ও পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা।

২৭তম বিসিএসের আগে বিএনপি-জামায়াত আমলে প্রিলিমিনারি ও রিটেন পরীক্ষার আগের রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উৎসব লেগে যেতো বিসিএসের প্রশ্ন ফাঁসের। এসব নৈরাজ্যের দিন শেষ হয়েছে শেখ হাসিনার হাত ধরেই।

নিয়মিত পড়াশোনা করে কোনো ঘুষ ছাড়াই নিয়োগ পাচ্ছে মেধাবীরা, এমনকি রাজনৈতিক পরিচয়েও কোনো প্রভাব ফেলেনা। আমি চাক্ষুষ, পরিচিত অনেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ২-৩ বার বিসিএসের ভাইভা দিয়েও ক্যাডার পায়নি। আবার অনেক ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের শিক্ষার্থীরাও বড় অফিসার হয়েছে। এসব পরিবর্তন শেখ হাসিনার হাত ধরেই হয়েছে। কোটা সংস্কার দরকার, তা অবশ্যই যৌক্তিকভাবে। কিন্তু কোনো বিশেষ গোষ্ঠী যদি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আসে, তাহলে অবশ্যই ভাবার আছে অনেক কিছু। সরকারের তাই আরও সময় নেয়া উচিৎ। আমি এখনো বিশ্বাস করি, কোটা সংস্কার হবে। কিন্তু তার জন্য সময় প্রয়োজন, ধৈর্য প্রয়োজন। যাচাই-বাছাই কমিটি যেহেতু গঠিত হয়েছে, অবশ্যই কোটা সংস্কার হবে। কিন্তু ততদিনে অনেকের মুখোশ খুলে যাচ্ছে, উদ্দেশ্য খারাপ থাকলে আর কতদিন তা চাপিয়ে রাখা যায়? সমালোচনা করুন, এটা আপনার গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু তা যেন রাষ্ট্রের জন্য হীতে বিপরীত না হয়ে যায়! শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ যদি রাষ্ট্রক্ষমতায় না থাকে, বিনিময়ে কাকে চান? ধরুন, পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ের মতো আওয়ামী লীগ ‘২১ বছর’ ক্ষমতায় থাকলো না, দেশটা বাংলাদেশ থাকবে তো? দেশটা যেন বাংলাদেশই থাকে! বঙ্গবন্ধু বলতেন, “আমি যখন থাকমু না, বুঝবি সেদিন। বটগাছ পইরা গেলে হাওয়ার ওজন টের পাবি।”

– হামজা রহমান অন্তর
জাতিরপিতার আদর্শের একজন নিঃস্বার্থ অনুসারী,
সহ-সভাপতি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাছাত্রলীগ।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 MuktoNews.Com
Design & Developed BY DevelopBD.Com