June 22, 2018, 2:57 pm

ইরাকে সেনা মোতায়েন করেছে তুরস্ক

ইরাকে সেনা মোতায়েন করেছে তুরস্ক

ইরাকের অভ্যন্তরে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম।

তুর্কি সীমান্তবর্তী ইরাকের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দি পিকেকে গেরিলাদের নির্মূল করার লক্ষ্যে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

তুরস্কের টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি’তে সরাসরি প্রচারিত এক বক্তব্যে ইলদিরিম বলেন, এই অভিযান মার্চ মাসে শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা সীমান্তবর্তী ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় সেনা মোতায়েন করেছি। এসব সেনা ইরাকের ৩০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত মোতায়েন রয়েছে।

তুর্কি সেনারা প্রয়োজনে আরো গভীরে প্রবেশ করে ইরাকের কান্দিল, মাখমুর বা সিনজার পর্যন্ত পৌঁছে যাবে বলেও তুর্কি প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন।

এর একদিন আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বলেছিলেন, তার দেশের সেনারা যেকোনো সময় ইরাকের কান্দিল শহরে সামরিক অভিযান চালাবে।

তুর্কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সোইলু এ সম্পর্কে বলেছেন, তার দেশের সেনারা ইরাকের কান্দিল এলাকায় পিকেকে গেরিলাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার ‘উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা’ করছে।

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় এরবিল প্রদেশের ‘কান্দিল’ পাহাড়ি এলাকা তুরস্কের সীমান্ত থেকে সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

আঙ্কারা অভিযোগ করছে, কুর্দি গেরিলারা ওই এলাকায় সদরদপ্তর স্থাপন করেছে। কুর্দি অধ্যুষিত এলাকার বৃহত্তর স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে পিকেকে ১৯৮৪ সাল থেকে তুর্কি সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় এরবিল প্রদেশের ‘কান্দিল’ পাহাড়ি এলাকা তুরস্কের সীমান্ত থেকে সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আঙ্কারা অভিযোগ করছে, কুর্দি গেরিলারা ওই এলাকায় সদরদপ্তর স্থাপন করেছে। কুর্দি অধ্যুষিত এলাকার বৃহত্তর স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে পিকেকে ১৯৮৪ সাল থেকে তুর্কি সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরান তালেবানকে সহযোগিতা করছে না: আফগান সরকার
আফগানিস্তানে তৎপর তালেবানের প্রতি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সমর্থনের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে আফগান সরকার। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মাদ রাদমানেশ শনিবার কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন।

রাশিয়া এবং ইরান তালেবানকে সহযোগিতা দিচ্ছে বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে সে সম্পর্কে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রাদমানেশ বলেন, এ ধরনের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই এবং ইরান বা রাশিয়া তালেবানকে সহযোগিতা করছে বলে কাবুলের কাছে কোনো প্রমাণ নেই।

একইসঙ্গে তিনি তালেবানসহ বিভিন্ন সরকার বিরোধী গোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে কাবুল সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানান।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এর আগে একাধিকবার আফগানিস্তানের তালেবানকে সহযোগিতা করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তেহরান ও কাবুল উভয়ের যৌথ শত্রুরা এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করছে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিশ্ব জনমতকে ইরান সম্পর্কে খারাপ ধারনা দেয়া এবং কাবুলের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক নষ্ট করার লক্ষ্যে এ ধরনের প্রচরণা চালানো হচ্ছে।

ইরাকে হামলা চালাতে প্রস্তুত তুরস্ক, অস্ট্রিয়াকেও হুঁশিয়ারি
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান বলেছেন, কুর্দি গেরিলাদের বিরুদ্ধে যদি ইরাক সরকার ব্যবস্থা না নেয় তাহলে তার দেশ উত্তর ইরাকে হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে। সিএনএন-তুর্ক অনুষ্ঠানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন।

এরদোগান বলেন, যে কোনো দিন সন্ধ্যায় তার দেশ উত্তর ইরাকের কান্দিল শহরে হামলা চালাতে পারে। সিনজার ও মাখমুর শহরেও সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে।

তুরস্কের সামরিক বাহিনী নিয়মিতভাবে ইরাকের সীমান্ত লঙ্ঘন করে পার্বত্য শহর কান্দিলে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে গেরিলাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। কান্দিল শহরটি তুরস্ক সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ইরবিল প্রদেশে অবস্থিত।

তুর্কি সামরিক বাহিনী উত্তর ইরাকে পিকেকে গেরিলাদের হাত থেকে ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা মুক্ত করেছে। পিকেকে গেরিলাদের তুরস্ক সন্ত্রাসী সংগঠন বলে মনে করে।

এদিকে অস্ট্রিয়াতে বিদেশি অর্থায়নে চলা ৭টি মসজিদ বন্ধ ও ৬০ জন ইমামকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের অভিযোগ, এসব মসজিদে ইসলাম নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। শুক্রবার এই বন্ধের ও বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার প্রধান চ্যান্সেলর সেবাস্তিায়ান কার্জ।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার উগ্র ডানপন্থী দল এফপিও এবং ওভিপি জোট সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে তুরস্ক। শুক্রবার তুর্কি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন টুইট করেছেন, ‘অস্ট্রিয়ার এমন সিদ্ধান্ত ইসলামবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক।’

এদিকে অস্ট্রিয়ান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কার্জ বলেন, ‘আমাদের দেশে রাজনৈতিক ইসলাম ও কট্টোরপন্থার জায়গা নেই। তদন্ত সাপেক্ষ এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

জানা যায়, মসজিদগুলো তুরস্কের ইসলামিক কালচারাল অ্যাসোশিয়েশন অর্থায়নে চলছিলো। সরকার ২০১৫ সালের একটি আইনে মাধ্যেমে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এই আইনের মাধ্যেমে ধর্মীয় গোষ্ঠীদের বিদেশী অর্থায়ন গ্রহণ করতে পারবে না।

গত এপ্রিলের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে চ্যান্সেলর এইসব মসজিদ বন্ধের হুমকি দিয়েছিলো। জানা যায়, ভিয়েনার এক মসজিদে তুর্কী পতাকা হাতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের এক ঘটনা তুলে ধরেছিল একদল শিশু। এই বিষয়টি নিয়েই অস্ট্রিয়ার সরকার ক্ষিপ্ত হয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় গ্যালিপলির লড়াইয়ের এক দিকে ছিল জার্মানি ও তৎকালীন অটোম্যান তুরস্ক আর অন্যদিকে মিত্র পক্ষ। সেখানে তীব্র লড়াই চলে বহুদিন ধরে। শেষ পর্যন্ত এই লড়াইয়ে মিত্র পক্ষের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে সক্ষম হয় অটোম্যান বাহিনি। এই বিজয় এখনো উদযাপন করা হয় তুরস্কে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আধুনিক তুরস্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

ঠিক এই ঘটনাটিকেই ভিয়েনার এক মসজিদে এক অনুষ্ঠানে ফুটিয়ে তুলেছিল একদল শিশু। সেখানে তারা সামরিক ইউনিফর্ম পরে তুর্কী পতাকা হাতে মিছিল করে। এরপর যুদ্ধে গুলি খেয়ে মারা যাওয়ার ভান করে। এই অনুষ্ঠানের ছবি এবং খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ভীষণ ক্ষুব্ধ অস্ট্রিয়ার ডানপন্থী সরকার।

এর আগে গত অক্টোবরে অস্ট্রিয়ায় মুসলিম মহিলাদের প্রকাশ্য স্থানে পুরো মুখ-ঢাকা নিকাব বা বোরকা পরা নিষিদ্ধ করা হয়। সেবাস্টিয়ান কুর্জ গত ডিসেম্বরে অভিবাসন বিরোধি ফ্রিডম পার্টির সাথে কোয়ালিশন করে ক্ষমতায় আসে।

নিজের নিরাপত্তার জন্যই এস-৪০০ কিনবে তুরস্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোলায়মান সোয়লু বলেছেন, তার দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করার অধিকার অনস্বীকার্য এবং এজন্য রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কোনো প্রচেষ্টা বাদ রাখবে না আংকারা।

তিনি বলেন, “বর্তমানে নিজের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার ক্ষমতা তুরস্কের নেই। এ অবস্থায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনলে তুরস্কের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করবে। যেসব দেশ তুরস্ককে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে বাধা দিচ্ছে তারা তুরস্কের সামরিক শক্তি দুর্বল করতে চায়।”

সোয়লু আরো বলেন, “এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা হবে তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এবং এ নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনলে তুরস্কের অবস্থান শক্ত হবে।”

গতকাল (বৃহস্পতিবার) তুরস্কের ইংরেজি ভাষার দৈনিক হুররিয়াত পত্রিকা অজ্ঞাত কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে একটি খবর দিয়েছে যাতে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, তুরস্ক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যস্থা কিনলেও যেন ব্যবহার না করে।

এস-৪০০ হচ্ছে একটি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যা ৪০২ কিলোমিটার দূরের শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান কিংবা ড্রোনকে চিহ্নিত ও ধ্বংস করতে সক্ষম। এর আগে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুধুমাত্র চীন ও ভারতের কাছে বিক্রি করেছে রাশিয়া।

২০১৫ সালে আমেরিকা তুর্কি সীমান্ত থেকে পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেয়ার পর আংকারা নিজের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার চেষ্টা করছে। এজন্য গত বছরের শেষ দিকে তুরস্ক রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। চুক্তি অনুসারে ২০১৯ সালের শেষ দিকে কিংবা ২০২০ সালের প্রথম দিকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ শুরু করবে মস্কো।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 MuktoNews.Com
Design & Developed BY DevelopBD.Com