June 22, 2018, 2:58 pm

হুমকিদাতা থেকে দক্ষ কূটনীতিক কিম জং

হুমকিদাতা থেকে দক্ষ কূটনীতিক কিম জং

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের যুদ্ধের হুমকি থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ আলিঙ্গন—সবই দেখা গেছে। রাজনীতির ময়দানে নতুন এই খেলোয়াড় এখন হাজির হয়েছেন একজন দক্ষ কূটনীতিক হিসেবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টান টান উত্তেজনা পরিস্থিতিতে কিমের এই বিস্ময়কর পরিবর্তন (আলোচনায় বসা) অবিশ্বাস্য, যা কয়েক দশক ধরে দেশটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দেখা যায়নি।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিমের এই পরিবর্তনকে গ্রহণ করছেন। যার ফলে কূটনৈতিক অঙ্গনে এর অপ্রত্যাশিত প্রভাব পড়েছে। সারা বছর ধরে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায় পিয়ংইয়ং। এর মধ্যে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

শীতকালীন অলিম্পিকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কিম প্রতিবেশী শত্রুদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সুযোগ নেন উন। ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হন দেশটির প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের সঙ্গে। উন ওই বৈঠকের পরপরই হঠাৎ মিত্রদেশ চীন সফরে যান প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে সম্মান জানাতে এবং সম্পর্ক আরেকটু ঝালিয়ে নিতে। এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যস্থতায় ট্রাম্পের সঙ্গে আগামী সপ্তাহে বহুকাঙ্ক্ষিত বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতার মধ্যে এটাই প্রথম কোনো বৈঠক।

কোরিয়া ন্যাশনাল ডিপ্লোমেটিক একাডেমির অধ্যাপক কিম হায়ুন-উক বলেন, এটা (বৈঠক) ছিল পূর্বপরিকল্পিত। কিম জানতেন যে, দুই কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যেতে হবে। যেতে হবে চীনের কাছেও।

দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের নেতাদের সঙ্গে উন যখন সাক্ষাৎ করেন, তখন তাঁকে নম্র, ভদ্র ও প্রাণোচ্ছল দেখাচ্ছিল, যা পিয়ংইয়ংয়ের যুদ্ধংদেহী চেহারার একেবারে বিপরীত।

উত্তর কোরিয়ার নেতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিও ভালো মনোভাব দেখিয়েছেন। তিনি বন্দী তিন মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছেন এবং ধ্বংস করেছেন পরমাণু পরীক্ষাকেন্দ্র। পাশাপাশি ছয় মাসের বেশি সময় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ রেখেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক উত্তর কোরিয়া বিশেষজ্ঞ ও ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা জং পাক বলেন, কিম যে চাপে পড়েই বৈঠকে বসছেন তা নয়, এটা তিনি চানও। তিনি অন্যদের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে খেলায়ও সম্পূর্ণ দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিংকে বিরুদ্ধশক্তি হিসেবে দাঁড় করাতেও সক্ষম হয়েছেন কিম।

এই পরিবর্তনের আগে ছয় বছর একেবারে বিচ্ছিন্ন ছিল উত্তর কোরিয়া। ২০১১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর উন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে কোনো দেশে সফরে যাননি, সাক্ষাৎ করেননি কোনো দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের সঙ্গে। কিন্তু এখন কিমের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরেশোরে চলছে। দূতেরা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বারবার বৈঠক করছেন।

সিউলে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক কো কাব-হু বলেন, ‘বেইজিংয়ে তাঁর (উন) নীতি একটি ভারসাম্য কূটনীতির সেরা উদাহরণ। তিনি বেইজিং ও সিউলের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় যাচ্ছেন।’

ট্রাম্প হঠাৎ করে যখন বৈঠক বাতিল করলেন, তখন উন ও মুন দ্রুত দ্বিতীয় বৈঠকের আয়োজন করলেন, যা দক্ষ কূটনীতির প্রমাণ।

আসান ইনস্টিটিউট অব পলিসি স্টাডিজের বিশ্লেষক গো মায়াং-হুন বলেন, সিঙ্গাপুরের বৈঠক যদি ব্যর্থও হয়, তারপরও ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু পরীক্ষায় দ্রুত ফিরে আসার বিষয়টি আরেকবার ভেবে দেখবেন কিম।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 MuktoNews.Com
Design & Developed BY DevelopBD.Com